অভ্যাসমতো সামহোয়ারইনে ঢুঁকেছিলাম ঢুঁ মারতে। বেশ মজা(!!!) পাচ্ছিলাম ব্লগগুলো পড়ে। ত্রিভুজের একজন প্রেমিক / প্রেমিকা জুটেছে, নাম অশ্রু। বেশ কিছুদিন ধরে সে একের পর এক অখাদ্য প্রেমপদ্য লিখে চলেছে, আর পাবলিকে মজা পেয়ে রেটিং বাড়িয়ে বাড়িয়ে সেরা পোষ্টে তুলে দিয়েছে। আর লাই পেয়ে আজকে সে একের পর এক হুংকার দিয়ে তার মুসলমান ভাই বোনদের ডাক দিচ্ছে তথাকথিক ইহুদিবাদের এজেন্ট আইজুদ্দিন ও তার দলবলকে একসাথে বহিস্কার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তার লেখা ভাষা পড়লে হাসতে হাসতে উল্টে পড়ার জোগাড়।
যাহোক, হঠাত একটা খবরে চোখ আটকে গেল। ভাস্কর চৌধুরির লেখা একটা ব্লগে - মায়ের কাছে মিলির আবদার ১ দিস্তা সাদা কাগজের...। পিতৃহারা একটা মেয়ে তার মায়ের কাছে চায় শুধু এক দিস্তা সাদা কাগজ, সে লিখতে চায়। অর্থের অভাবে সে কখনই সাদা কাগজে লিখতে পারে নাই। তার বড় সাধ সে সাদা কাগজে লিখবে। অথচ অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাওয়া তার মায়ের এতটুকু সার্মথ্যও নাই।
কি নিদারুণ দারিদ্রতা!
কিছুদিন আগে খবরের কাগজে পড়েছিলাম খেটে খাওয়া দিনমজুর ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে, অথচ তার মিষ্টি মুখ করার সামর্থ্য নাই। পাড়ার মুদি দোকানদার তাকে ডেকে মিষ্টি খাইয়েছিল।
এমন হাজারো ঘটনা প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে ঘটছে। আমরা দেখেও না দেখার ভান করছি। কেন?
আজ আম্মা ফোন করেছিল ... কথায় কথায় বলল জিনিসপত্রের দাম খুবই চড়া বাংলাদেশে। প্রায়ই আমাদের কথায় ব্যাপারটা ভেসে আসছে। বুঝতে পারছি মধ্যবিত্ত বাবাকে কেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে মনের মাঝে ভাবনা উঁকি দেয় রাস্তার পাশে পলিথিনের ছাউনি টাঞ্জিয়ে যারা দিন কাটাচ্ছে কিংবা দূর্বিসহ বন্যায় ভেসে থাকা মানুষগুলো কি করে ৩০ টাকা দরে আটা কিনে খাচ্ছে? ভাবতে কষ্ট হয়, তাই হয়তো এগুলো নিয়ে ভাবতেই চাই না। কি দরকার নিজে তো ভাল আছি।
হঠাত করে মিলিকে সাহায্য করতে খুব ইচ্ছে করছে। এখানে কেউ কি পিরোজপুরে থাকেন? ভাস্কর চৌধুরির ব্লগমতে ভাইজোড়া নামের গ্রামে থাকে মেয়েটি। কেউ যদি রাজী থাকেন আপনার হাতে কিছু টাকা দিতে চাই, আপনি ওর হাতে দিন। পারলে ওর পছন্দমতো কয়েকটা বই, কলম, খাতা কিনে দিন। আমি সাধ্যমতো টাকা আপনার হাতে পাঠিয়ে দিব। আমার ইমেইল এড্রেস - hasan@hasan-online.com
চলুন না, হাজারটা না হোক অন্তত একটা মুখে হাসি ফুটাই।
ব্লগটির জন্য কৃতজ্ঞতা ভাস্কর চৌধুরী




