Hasan-Online.com - Jinnat Ul Hasan Homepage

Tuesday, August 14, 2007

এক দিস্তা কাগজের স্বপ্ন

অভ্যাসমতো সামহোয়ারইনে ঢুঁকেছিলাম ঢুঁ মারতে। বেশ মজা(!!!) পাচ্ছিলাম ব্লগগুলো পড়ে। ত্রিভুজের একজন প্রেমিক / প্রেমিকা জুটেছে, নাম অশ্রু। বেশ কিছুদিন ধরে সে একের পর এক অখাদ্য প্রেমপদ্য লিখে চলেছে, আর পাবলিকে মজা পেয়ে রেটিং বাড়িয়ে বাড়িয়ে সেরা পোষ্টে তুলে দিয়েছে। আর লাই পেয়ে আজকে সে একের পর এক হুংকার দিয়ে তার মুসলমান ভাই বোনদের ডাক দিচ্ছে তথাকথিক ইহুদিবাদের এজেন্ট আইজুদ্দিন ও তার দলবলকে একসাথে বহিস্কার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তার লেখা ভাষা পড়লে হাসতে হাসতে উল্টে পড়ার জোগাড়।

যাহোক, হঠাত একটা খবরে চোখ আটকে গেল। ভাস্কর চৌধুরির লেখা একটা ব্লগে - মায়ের কাছে মিলির আবদার ১ দিস্তা সাদা কাগজের...। পিতৃহারা একটা মেয়ে তার মায়ের কাছে চায় শুধু এক দিস্তা সাদা কাগজ, সে লিখতে চায়। অর্থের অভাবে সে কখনই সাদা কাগজে লিখতে পারে নাই। তার বড় সাধ সে সাদা কাগজে লিখবে। অথচ অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাওয়া তার মায়ের এতটুকু সার্মথ্যও নাই।

কি নিদারুণ দারিদ্রতা!

কিছুদিন আগে খবরের কাগজে পড়েছিলাম খেটে খাওয়া দিনমজুর ছেলে জিপিএ ৫ পেয়েছে, অথচ তার মিষ্টি মুখ করার সামর্থ্য নাই। পাড়ার মুদি দোকানদার তাকে ডেকে মিষ্টি খাইয়েছিল।

এমন হাজারো ঘটনা প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে ঘটছে। আমরা দেখেও না দেখার ভান করছি। কেন?

আজ আম্মা ফোন করেছিল ... কথায় কথায় বলল জিনিসপত্রের দাম খুবই চড়া বাংলাদেশে। প্রায়ই আমাদের কথায় ব্যাপারটা ভেসে আসছে। বুঝতে পারছি মধ্যবিত্ত বাবাকে কেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে মনের মাঝে ভাবনা উঁকি দেয় রাস্তার পাশে পলিথিনের ছাউনি টাঞ্জিয়ে যারা দিন কাটাচ্ছে কিংবা দূর্বিসহ বন্যায় ভেসে থাকা মানুষগুলো কি করে ৩০ টাকা দরে আটা কিনে খাচ্ছে? ভাবতে কষ্ট হয়, তাই হয়তো এগুলো নিয়ে ভাবতেই চাই না। কি দরকার নিজে তো ভাল আছি।

হঠাত করে মিলিকে সাহায্য করতে খুব ইচ্ছে করছে। এখানে কেউ কি পিরোজপুরে থাকেন? ভাস্কর চৌধুরির ব্লগমতে ভাইজোড়া নামের গ্রামে থাকে মেয়েটি। কেউ যদি রাজী থাকেন আপনার হাতে কিছু টাকা দিতে চাই, আপনি ওর হাতে দিন। পারলে ওর পছন্দমতো কয়েকটা বই, কলম, খাতা কিনে দিন। আমি সাধ্যমতো টাকা আপনার হাতে পাঠিয়ে দিব। আমার ইমেইল এড্রেস - hasan@hasan-online.com

চলুন না, হাজারটা না হোক অন্তত একটা মুখে হাসি ফুটাই।

ব্লগটির জন্য কৃতজ্ঞতা ভাস্কর চৌধুরী

Monday, March 26, 2007

Minnows বনাম বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম যে আমাদের জাতীয় জীবনে এত বড় আনন্দের দিন উপহার দিয়েছে, সেজন্য তাদের অশেষ ধন্যবাদ। তারা প্রমান করতে পেরেছে আর আটটা বড় টিমের চেয়ে তার কোনো অংশে কম নয়। বড় বড় দলগুলো যেখানে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে যাচ্ছিল, তারা সেখানে আজ প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে পেয়ে নতুন করে হিসেব করতে শুরু করে দিয়েছে।


একটা অন্য বিষয় নিয়ে কাল খেলা থেকেই ভাবছি। ক্রিকেটারদের কল্যানে বাংলাদেশের নামের পাশ থেকে Minnows শব্দটি আপাতত বাদ পড়েছে। শব্দটি যেমনই অপমানকর তেমনি হতাশা আর লজ্জার। কুলীন দলগুলো আমাদের অবহেলা করেছে কারন আমরা Minnows। ভারত আমাদের দেশে খেলতে আসেনি, কারন আমরা Minnows। চারু শর্মা আর মন্দিরা বেদীর উপস্থাপনায় ফুটে উঠেছে অপমান কারন আমরা Minnows ইত্যাদি ইত্যাদি। সবাই কত গালি আর বদদোয়া দিলাম ওদের।


অথচ বারমুডার সাথে ম্যাচে এক দর্শকের হাতে ব্যানারে লেখা দেখলাম Bermuda is good for vacation, not for cricket কিংবা Bangladesh don't break Bermuda's bone। এই ব্যানারগুলো কি বারমুডার জন্য কম অপমানকর নয়? আমরা কি এত বড় টিম হয়ে গেছি যে বারমুডাকে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অধিকার রাখি? আর ওদের সাথে এভাবেই ব্যবহার করব তাহলে ভারত, অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডকে গালি দেবার অধিকার আমাদের কি দিল?এমন ধরনের উগ্র ব্যানার, উক্তি, চিন্তাধারা কোনো অংশেই কম নয়।


বারমুডা নতুন টিম কিন্তু সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন তাদের মধ্যেও বড় হওয়ার পটেনসিয়াল আছে, শুধু সময় আর সুযোগের অপেক্ষা। কিছুক্ষনের জন্য হলেও কাল মনে হয়েছিল এই বুঝি বারমুডা জিতে যাচ্ছে। তাহলে কি দাঁড়াল?


শেষে একটা কথাই বলতে চাই, কালকের জয় যদি জয় না হত, তাহলে আমরা হয়ত আমরা Minnowsই থেকে যেতাম।


ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা ক্রিকইনফো

Sunday, March 25, 2007

আমার একটি সাধারন দিন - ২৫ শে মার্চ, ২০০৭

আজ অন্য আর দশটা দিনের মতোই একটা সাধারন দিন। আজকে বাংলাদেশ তাদের গ্রুপের শেষ ম্যাচে বারমুডার বিরুদ্ধে খেলছে। এই খেলায় জেতা খুবই গুরুত্বপূর্ন, কারন এই খেলায় জিতলে বাংলাদেশ চলে যাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ২য় রাউন্ডে আর অহংকারী ভারতীয় দল চলে আপন দেশে। এত একটি গুরুত্বপূর্ন খেলা এই নিয়ে চার বার বৃষ্টির জন্য বন্ধ হল। শেষবার বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত বারমুডা ৪ উইকেট হারিয়ে করেছিল ৪৫ রান আর খেলা সংক্ষিপ্ত করে ৩০ ওভারে নিয়ে আসা হয়েছে।

আজ ঐতিহাসিক ২৫শে মার্চ। এই দিনে ৩৬ বছর আগে রাতের অন্ধকারে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর চালিয়েছিল অমানবিক, ঘৃণ্য এক হত্যাযজ্ঞ। সেইদিন বাঙ্গালীর কন্ঠরোধ করার জন্য লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল একদল জানোয়ার আর তাদের উপর নির্দেশ ছিল যেখানেই কন্ঠ শুনতে পারবে, সেখানেই গুলি চালিয়ে থামিয়ে দেবে যেকোন প্রতিবাদ।

মূলত ২৬শে মার্চ থেকেই শুরু হয়েছিল বাঙ্গালীর স্বাধীনতা সংগ্রামের স্বশস্ত্র আন্দোলন। নতুন করে বলার কিছু নেই। ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এই অমূল্য স্বাধীনতা আর স্বাধীনতার ইতিহাস ভুলন্ঠিত হয়েছে বার বার। গনতন্ত্রের নামে গত ৩৬ বছরে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় এসে প্রয়োজনমতো পরিবর্তন করেছে স্বাধীনতার পটভূমি। এখনও স্বাধীনতার ঘোষক দিয়ে চলছে বির্তক। জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা কারোও অজানা নয়, অথচ তাদেরই প্রতিনিধিরা স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে রাস্তা দাপিয়ে সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করে, জাতীয় দিবসগুলোতে পতাকা উত্তোলনে অংশ নেয়।

লজ্জা, লজ্জা, লজ্জা।

Wednesday, March 21, 2007

আজ বাংলাদেশের খেলা, শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে

প্রথম খেলায় অভাবনীয় সাফল্য আর ভারত বধের পর আজ বাংলাদেশ নামছে শ্রীলংকার বিপক্ষে। এই ম্যাচটি শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশ দুইটি দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। এই খেলায় যেদলই জিতবে তারাই দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার জন্য এক ধাপ এগিয়ে যাবে। কারন শ্রীলঙকার পরবর্তী ম্যাচ ভারতের সাথে আর বাংলাদেশের ম্যাচ বারমুডার সাথে।

এখন ভারত যদি শ্রীলংকাকে হারাতে পারে এবং শ্রীলংকা বাংলাদেশকে আর গ্রুপের শেষ খেলায় বাংলাদেশ বারমুডাকে হারায় তাহলে তিনদলেরই পয়েন্ট সমান হয়ে যাবে। তখন স্কোরিং রেট কাজে আসবে। অন্যদিকে পোড়খাওয়া ভারত বারমুডাকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে রেটের দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এজন্য বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকা দুই দলই চাইবে আজকে ম্যাচে জিতে নিজেদের অবস্থান ঠিক করে নিতে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ আজ কেমন খেলবে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে -

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ১৮টি ম্যাচে উত্তীর্ন হয়েছে, সেখানে শ্রীলংকা জিতেছে ১৭টি ম্যাচে। সবাই বলছে সেই বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। একদিকে রয়েছে জয়সুরিয়া, জয়াবর্ধনে অন্যদিকে মুরালীধরন, ভাস। চামিন্ডা ভাস তো বাংলাদেশের যম। শেষ ম্যাচের ১ম ওভারে তার সাফল্য ছিল ৩ রানে ৪ উইকেট!!!

বাংলাদেশের জন্য অনেক অনেক শুভাশীস রইল।